আমি মিথিলা। ঢাকার বেইলি রোডের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে থাকি একা। চাকরি করি একটা মার্কেটিং ফার্মে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা—নিয়মিত, নিয়ম মেনে চলা আমার অভ্যেস। কিন্তু রাত?

রাত আমার নয়। রাত আমাকে নিজের করে নেয়।

রাত ১০টা নাগাদ সব ব্যস্ততা ফুরিয়ে আসে, শহর ঢিমে লয়ে নিঃশব্দে হেঁটে চলে। আমি তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকি, হাতে এক কাপ কফি আর মনে একরাশ ভাবনা।

প্রতিদিন এক ছেলেকে দেখি। ঠিক পাশের বিল্ডিং-এর ছাদে এসে দাঁড়ায়। কখনো ফোনে কথা বলে, কখনো চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। নামটা জানি না, কিন্তু চোখে চোখ পড়েছে কয়েকবার।

সেদিন হঠাৎ করেই আমার দরজায় টোকা। দরজা খুলতেই... তাকিয়ে দেখি সেই ছেলেটা।
হালকা হাসি দিয়ে বলল,
— "Hi, আমি রাশেদ। পাশের বিল্ডিং থেকে এসেছি। তোমার নামটা জানতে পারি?"
আমি একটু অবাক হলেও ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।
— "মিথিলা। আমি ঢাকার মিথিলা।"

তারপর থেকে রাশেদ প্রায়ই আসে। কথা হয়, গল্প হয়, চুপচাপ বসে থাকার সময়টুকুও হয়ে ওঠে অনুভবের মতোন। এক রাতে হালকা বৃষ্টির মধ্যে বারান্দায় বসে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
— "তুমি কি জানো, তোমার নীরবতাও ভয়ংকর রকমের আকর্ষণীয়?"

আমি চুপ করে ছিলাম। কারণ, আমিও বুঝে গিয়েছিলাম—আমার একাকীত্বটাকে কেউ বুঝে ফেলেছে। আমার ইচ্ছেগুলো, যা এতদিন ধরে পুঞ্জিভূত ছিল, এবার ছুঁয়ে যাওয়ার মতো সাহস পেয়েছে কেউ।

সে রাতে, মেঘে ঢাকা ঢাকার আকাশের নিচে, আমার ঠোঁটে কাঁপা কাঁপা উত্তরে আমি শুধু বলেছিলাম,
— "আমি আর শুধু মিথিলা নই… এখন আমি কারো অনুভবে লুকানো এক ঢাকার গল্প।"